ভারতের উপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক চাপাতে বলেছিলেন! ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ সেই মার্কিন সেনেটর প্রয়াত

Spread the love

প্রয়াত মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম তাঁর কর্মজীবনে নানা সময়ে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন। তাঁর করা নানা মন্তব্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে সর্বস্তরে।

প্রয়াত মার্কিন সেনেটের দীর্ঘ দিনের সদস্য লিন্ডসে গ্রাহাম। শনিবার সন্ধ্যায় (স্থানীয় সময়) ৭১ বছর বয়সি গ্রাহামের মৃত্যু হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন। তাঁর অফিসের তরফে জানানো হয়েছে, আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলে গ্রাহাম। চিকিৎসা শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মৃত্যু হয় তাঁর।

গ্রাহাম তাঁর কর্মজীবনে নানা সময়ে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন। তাঁর করা নানা মন্তব্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে সর্বস্তরে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি দাবি করেছিলেন, ‘উল্লেখযোগ্য ভাবে’ রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমিয়ে দিয়েছে ভারত। আর ভারতের এই পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে ট্রাম্পের শুল্কনীতি। গ্রাহামের দাবি, কী ভাবে একটা নীতিগত পদক্ষেপ বিভিন্ন দেশের কর্মকাণ্ডকে প্রভাবিত করতে পারে, তার ‘ভাল উদাহরণ’ দিল্লির উপর আরোপিত ট্রাম্পের শুল্ক।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ভারতের উপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর কথা বলেছিলেন গ্রাহাম। তিনি দাবি করেছিলেন, ট্রাম্প এমন একটি বিলে (গ্রাহাম-ব্লুমেন্থাল নিষেধাজ্ঞা বিল) অনুমোদন দিয়েছেন, যা নিয়ে তিনি কয়েক দিন ধরে কাজ করছিলেন। এই বিল মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এমন ক্ষমতা দেবে, যার বলে তিনি রাশিয়া থেকে তেল ক্রয়কারী ভারত-সহ দেশগুলির উপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাবেন। এই শুল্ককে ‘শাস্তি’ হিসাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন রিপাবলিকান সেনেটর গ্রাহাম।

ইরানের আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে ‘হত্যা’ করার পরামর্শও দিয়েছিলেন গ্রাহাম। ইরানে হামলার প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘‘আমি যদি মার্কিন প্রেসিডেন্টের জায়গায় থাকতাম, তবে যাঁরা গণহত্যা করছেন, তাঁদের খুন করতাম।’’ গ্রাহাম এ-ও দাবি করেছিলেন, ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলি খামেনেইকে ‘হত্যা’ করলে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফিরবে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় মৃত্যু হয় খামেনেইয়ের।

গ্রিনল্যান্ডের ‘দখল’ নিয়েও মন্তব্য করেছিলেন গ্রাহাম। এই দ্বীপরাষ্ট্রের ‘দখলের’ দাবি অনেক দিন ধরেই করে আসছেন ট্রাম্প। তবে গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ কখনওই চাননি, তাঁদের উপর ছড়ি ঘোরাক আমেরিকা। সেই প্রসঙ্গে গ্রাহাম বলেছিলেন, ‘‘গ্রিনল্যান্ড আমাদের পিছনে রয়েছে। তবে আমাদের লক্ষ্য ফলাফল অর্জন করা।’’ তবে গ্রাহাম এ-ও মনে করতেন, ‘‘গ্রিনল্যান্ডের মালিক কে, তাতে কী এসে যায়।’’

ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের অবসান করতে আসরে নেমেছে পাকিস্তান এবং কাতার। তাদের মধ্যস্থতায় ইরান-আমেরিকার মধ্যে শান্তিবৈঠক, শান্তিচুক্তি বাস্তবায়িত হওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে গ্রাহাম পাকিস্তানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এক্স পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘‘আমার কাছে এটা স্পষ্ট যে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে পাকিস্তান অত্যন্ত সমস্যাজনক। ইজ়রায়েলের সঙ্গে তাদের শত্রুতা অনেক দিনের। এটা স্বীকার করতেই হবে পাকিস্তানের বিমান ঘাঁটিগুলিতে ইরানের সামরিক বিমান রাখা হচ্ছে।’’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *