ফিনল্যান্ডে পড়তে গিয়ে নিখোঁজ! দু’মাস পরে সমুদ্র থেকে উদ্ধার হায়দরাবাদের ছাত্রের দেহ, পরিবারের দাবি, ‘তথ্য গোপন’ করছে পুলিশ

Spread the love

মণিদীপ নিখোঁজ হওয়ার পরে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। ২৯ মে পর্যন্ত সেই মামলার বিষয়ে সব কিছু পরিবারকে জানাত পুলিশ। কিন্তু তার পর থেকে পরিবারের সঙ্গে পুলিশের তরফে কোনও যোগাযোগ করা হয়নি।

হায়দরাবাদ থেকে ফিনল্যান্ডে স্নাতক পড়তে গিয়েছিলেন ১৮ বছরের মণিদীপ রেড্ডি। গত মে মাস থেকে নিখোঁজ ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার সমুদ্র থেকে উদ্ধার হয় ছাত্রের দেহ। ফিনল্যান্ডের ন্যাশনাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখছে। তারা বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ছাত্রকে খুন করার কোনও প্রমাণ মেলেনি। যদিও মৃত ছাত্রের পরিবারের দাবি, ছাত্রের মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। তাঁরা ফিনল্যান্ডে যেতে চাইলে ভিসা পর্যন্ত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।

ফিনল্যান্ডের লাপ্পিনরান্টা-লাহটি ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজিতে সফটওয়্যার অ্যান্ড সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে স্নাতক স্তরে ভর্তি হয়েছিলেন মণিদীপ। গত ৫ মে হেলসিঙ্কির সুপারমার্কেটে শেষ বার তাঁকে দেখা গিয়েছিল। লাহটি থেকে ট্রেনে চেপে হেলসিঙ্কিতে গিয়েছিলেন মণিদীপ (স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা নাগাদ)। স্থানীয় সময় রাত ৮টায় তাঁকে শেষ বার দেখা গিয়েছিল বাজারে। তার পর থেকে আর খোঁজ মেলেনি মণিদীপের।

পরিবারের অভিযোগ পেয়ে মণিদীপের খোঁজ শুরু করে ফিনল্যান্ডের পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার ছাত্রের দেহ উদ্ধার হয়েছে। পকেটে মেলা ওয়ালেটে ছাত্রের ফিনল্যান্ডের পরিচয়পত্র, তাঁর মায়ের ব্যাঙ্কের কার্ড এবং ভারতীয় মুদ্রা মিলেছে। তা থেকেই তাঁকে শনাক্ত করা গিয়েছে। ফিনল্যান্ডের তদন্তকারী সংস্থা বলছে, এই ঘটনার নেপথ্যে রহস্যজনক কিছু নেই।

মণিদীপের পরিবারের আইনজীবী কেএলবি কুমারের অভিযোগ, ফিনল্যান্ডের সরকার ‘তথ্য গোপন’ করছে। তিনি পিটিআই-কে বলেন, ‘‘মণিদীপের মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। দু’মাস পরে দেহ উদ্ধার হয়েছে। মৃত্যুর তদন্তের দাবি করছি।’’ ওই আইনজীবীর আরও দাবি, মণিদীপ নিখোঁজ হওয়ার পরে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। ২৯ মে পর্যন্ত সেই মামলার বিষয়ে সব কিছু পরিবারকে জানাত পুলিশ। কিন্তু তার পর থেকে পরিবারের সঙ্গে পুলিশের তরফে কোনও যোগাযোগ করা হয়নি। গত মাসে তেলঙ্গানা হাই কোর্টে একটি পিটিশনও করে ছাত্রের পরিবার।

পরিবারের দাবি, ফিনল্যান্ডের প্রশাসন তাঁদের জানিয়েছিল, ৬ মে মণিদীপ নিখোঁজ হওয়ার পরে ৯ মে তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টে লগইন করা হয়েছে। ১০ মে আরও এক বার সেই অ্যাকাউন্টে লগইন করা হয়েছে বলে জানান কর্তৃপক্ষ। পরিবারের প্রশ্ন, কী করে তা সম্ভব? সূত্রের খবর, ছাত্রের মোবাইল, ল্যাপটপ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার কিছু ক্ষণ আগে মাকে ফোন করেছিলেন মণিদীপ। ৬,০০০ টাকা চেয়েছিলেন। সেই টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা হয়েছিল, কিন্তু তা আর খরচ করেননি ছাত্র। ছাত্রের বাবা-মায়ের অভিযোগ, পুত্র নিখোঁজ হওয়ার পরে ফিনল্যান্ডে যাওয়ার জন্য ভিসা চেয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু পরিবারের অভিযোগ, তাঁদের ভিসার আবেদন মঞ্জুর করা হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *