ভিয়েতনামের ফু কোক দ্বীপের অদূরে একটি নৌকাডুবিতে ১৫ জন ভারতীয় পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুরে একটি মোবাইল সংস্থার উদ্যোগে ভিয়েতনামে গিয়েছিলেন পর্যটকেরা।
ভিয়েতনামের হোন মে রুত এনগোই দ্বীপ থেকে ভারতীয় পর্যটকদের নিয়ে একটি নৌকা রওনা দিয়েছিল অন্য একটি দ্বীপের উদ্দেশে। স্থানীয় সময় শনিবার তখন দুপুর দেড়টা। নৌকায় ৩৯ জন ছিলেন। এনগোই দ্বীপে তখন ভারতীয় পর্যটকদের আরও দু’টি নৌকা অপেক্ষা করছিল। বাকি পর্যটকেরা তখন ছবি তোলায় ব্যস্ত।
প্রত্যক্ষদর্শী এক পর্যটক বলেন, ‘‘দ্বীপ থেকে খুব বেশি হলে ৩০০ মিটার দূরে পৌঁছেছিল। হঠাৎই দেখলাম ঢেউয়ে বেসামাল হয়ে পড়ল নৌকাটি। তার পর আর একটা ঢেউ। খেলনার মতো নৌকাটিকে উল্টে দিল।’’ একটি ফোন সংস্থার উদ্যোগে অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুর থেকে ভিয়েতনামে বেড়াতে গিয়েছিলেন ভারতীয় পর্যটকেরা। ওই সংস্থায় কর্মরত আশিস কুমার সংবাদসংস্থা পিটিআইকে জানান, পর্যটকেরা তিনটি দলে ভাগ হয়ে তিনটি নৌকা করে দ্বীপ ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, ‘‘গত ৯ জুলাই আমরা ভিয়েতনামে পৌঁছোই। রবিবার আবার দেশে ফিরে যাওয়ার কথা। কিন্তু তার আগেই এই দুর্ঘটনা।’’

আশিস জানিয়েছেন, আবহাওয়া খারাপ ছিল না। আকাশ পরিষ্কারই ছিল। কিন্তু সরকারি তদন্তের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, উঁচু ঢেউ ও প্রবল হাওয়া ছিল এবং সেটিই দুর্ঘটনার অন্যতম সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তামিলনাড়ুর এক পর্যটক নির্মল কুমার এই দুর্ঘটনায় বেঁচে ফিরেছেন। তিনি জানান, তাঁদের নৌকায় মোট ৩৯ জন ছিলেন। তার মধ্যে ৩২ জন ভারতীয়। একটা বড় ঢেউ এসে ধাক্কা মারে নৌকাটিকে। ২০ জন ছিটকে সমুদ্রে পড়ে যান। নৌকাটি পাল্টি খেয়ে যাওয়ায় ভিতরে আটকে পড়েন ১৫ জন। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা যাঁরা নৌকার সামনের দিকে ছিলাম, তাঁরাই বেঁচে গিয়েছি।’’
নৌকা পাল্টি খেতেই উদ্ধারকারীরা দেখতে পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। সমুদ্র থেকে অনেককে টেনে তোলেন। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। তবে এই দুর্ঘটনায় ১৫ জন ভারতীয়ের মৃত্যু হয়েছে বলে ভিয়েতনাম প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।