শিশুর হঠাৎই তীব্র জ্বর, হাতে-মুখে ঘা, পক্স বা হাম ভেবে ভুল করেন বাবা-মায়েরা, রোগটি কী?

Spread the love

করোনার সময়েও এ রোগের প্রকোপ বেড়েছিল। মরসুম বদলের সময়ে ফের এমন অসুখের উৎপাত বেড়েছে। ‘এইচএফএমডি’ বা হ্যান্ড, ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজ়িজ়ে আক্রান্ত হয় অনেক শিশুই। কিন্তু লক্ষণ দেখে রোগটি চিনতে পারেন না বেশির ভাগ অভিভাবকই।

স্কুল থেকে ফেরার পরেই হয়তো দেখলেন, শিশুর গা গরম। তার পরেই কাঁপুনি দিয়ে জ্বর। সেই সঙ্গে হাত, পা ও মুখের নানা জায়গায় বড় বড় ফোস্কার মতো বেরিয়েছে। যন্ত্রণাও প্রবল। এমন লক্ষণ দেখা দিলে বাবা-মায়েরা সাধারণত হাম বা চিকেন পক্স ভেবে ভুল করেন। আসলে রোগটি হল হ্যান্ড, ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজ়িজ় বা ‘এইচএফএমডি’। করোনার সময়েও এই রোগের প্রকোপ বেড়েছিল। মরসুম বদলের সময়ে মাঝেমধ্যেই হানা দেয় এই রোগ।

হাত ও মুখের অসুখটি কী?

এটি এক ধরনের ভাইরাল অসুখ। শিশুদের যে কোনও সময়েই এই অসুখ হতে পারে, তবে সাধারণত দুই থেকে আট বছরের শিশুদের মধ্যে এই রোগ বেশি দেখা যায়। অসুখটি ছোঁয়াচে। একে ঠেকানোর কোনও প্রতিষেধক নেই। আক্রান্ত শিশুর সংস্পর্শে আসা অন্য শিশুদের মধ্যেও তা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

হ্যান্ড, ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজ়িজ় হয়েছে কি না, তা বোঝার সবচেয়ে ভাল উপায় হল, খেয়াল করতে হবে শিশুর মুখ, পায়ের পাতা, হাঁটুর উপরে, হাতের তালুতে ফোস্কার মতো বেরিয়েছে কি না। সেই সব জায়গায় লালচে র‌্যাশও হতে পারে। এই ফোস্কা বা র‌্যাশের ধরন সাধারণ হাম বা চিকেন পক্সের থেকে অনেকটাই আলাদা। সেই সঙ্গে শিশুর তীব্র জ্বর আসবে, ফোস্কার জায়গায় যন্ত্রণা হবে, খিদে কমে যাবে ও মারাত্মক দুর্বলতা দেখা দেবে। জিভ, মাড়ি এবং গালের ভিতরের অংশে ছোট ছোট লালচে দাগ বা ঘা হতে পারে। শিশুর গলায় ব্যথা হবে, খাবার গিলতে কষ্ট হবে। এক বার এই অসুখ শুরু হলে তা পুরোপুরি সারতে সাত থেকে দশ দিন সময় লাগে।

এই রোগের নির্দিষ্ট কোনও ওষুধ নেই। অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ এ ক্ষেত্রে তেমন কাজ করে না। জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল দেওয়া হয় এবং মুখের ঘা সারাতে মাউথওয়াশ, লোকাল অ্যানাস্থেটিক জেলি লাগানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

কী ভাবে সতর্ক থাকবেন?

শিশুর হাতে, পায়ে ও মুখে র‌্যাশ বা ঘা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল খাওয়াতে পারেন, তবে র‌্যাশের জায়গায় কোনও অ্যান্টিসেপটিক মলম লাগানো যাবে না।

অনেক সময়ে বাবা-মায়েরা বিভ্রান্ত হয়ে অ্যন্টিবায়োটিক খাইয়ে দেন শিশুকে। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। যেহেতু এর কোনও প্রতিষেধক নেই, তাই চিকিৎসকেরা শিশুর লক্ষণ দেখেই চিকিৎসা করবেন।

রোগটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে হওয়ায় শিশুকে অন্তত ৭-১০ দিন স্কুলে বা বাইরে খেলতে পাঠানো যাবে না। আলাদা ঘরে রাখাই সবচেয়ে ভাল। শিশুর ব্যবহৃত সব জিনিসপত্রও আলাদা রাখার চেষ্টা করতে হবে।

মুখের ঘায়ের কারণে শিশু শক্ত খাবার খেতে পারবে না। তাই তাকে ঠান্ডা দুধ, সুজি, পাতলা খিচুড়ি, ডাবের জল, বা ফলের রস খাওয়াতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *