পুরীর রথযাত্রায় জল-স্থল-আকাশ থেকে নজরদারি! থাকবে ১৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী, পুণ্যার্থী-সুরক্ষায় কী কী পদক্ষেপ

Spread the love

রথযাত্রার দিন পুরীর রাস্তায় মোতায়েন থাকবে ১৩ হাজার পুলিশকর্মী। উপকূলে নজরদারির দায়িত্ব থাকছে নৌসেনা, উপকূলরক্ষী বাহিনী এবং মেরিন পুলিশের উপরে। পুরীতে মোতায়েন থাকবে র‌্যাফও।

পুরীর রথযাত্রা নির্বিঘ্নে এবং সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করতে আঁটোসাঁটো নিরাপত্তার ব্যবস্থা করছে ওড়িশা সরকার। স়ড়কপথে যেমন নজরদারি চলবে, তেমনই সমুদ্র থেকেও চলবে নজরদারি। বাহিনীর ‘চোখ’ হয়ে আকাশে উড়বে ড্রোনও। শহর জুড়ে প্রায় ১৩ হাজার পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হবে। সঙ্গে থাকবে ১৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীও।

আগামী বৃহস্পতিবার রথযাত্রা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ-সহ গোটা দেশের এমনকি বিদেশ থেকে বহু মানুষ রথযাত্রা উপলক্ষে পুরীতে যান। এই সময়ে পুণ্যার্থীদের ভিড় সামলানো প্রতি বছরই একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে প্রশাসনের কাছে। রথযাত্রা উপলক্ষে এ বছরেও পুরীতে বহুস্তরীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করছে প্রশাসন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা কী ভাবে সাজানো হবে, তা নিয়ে শনিবারও বৈঠক করেন ওড়িশার পুলিশপ্রধান ওয়াইবি খুরানিয়া।

গুরুত্বপূর্ণ ওই প্রস্তুতি বৈঠক শেষে ওড়িশা পুলিশের ডিজি জানান, সিআরপিএফ, বিএসএফ-সহ কেন্দ্রীয় বাহিনীর ১৫ কোম্পানি মোতায়েন করা হবে। থাকবে র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র‌্যাফ)। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং পুণ্যার্থীদের সাহায্যের জন্য পুরীর বিভিন্ন প্রান্তে ১৩ হাজার পুলিশকর্মী এবং হোম গার্ড মোতায়েন থাকবেন।

এই বাহিনী কোন এলাকায় কী পরিমাণে মোতায়েন করা হবে, সেই পরিকল্পনাও ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করে ফেলেছে ওড়িশা পুলিশ। ডিজি জানান, আধিকারিকদের কার কী দায়িত্ব থাকবে, তা-ও ইতিমধ্যে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোনও ঘটনা ঘটলে যাতে দ্রুত পদক্ষেপ করা যায় এবং কাজের সময়ে সুষ্ঠু সমন্বয় থাকে— তা নিশ্চিত করতেও প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুণ্যার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জলপথেও নজরদারির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে উপকূলীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও আঁটোসাঁটো করা হচ্ছে। নৌসেনা, উপকূলরক্ষী বাহিনী এবং ওড়িশার মেরিন পুলিশ যৌথ ভাবে উপকূলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার তদারকি করবে।

গত মঙ্গলবারও একটি প্রস্তুতি বৈঠকে বসেছিল ওড়িশা পুলিশ। ওই বৈঠকেও কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং কুইক রেসপন্স টিম কোথায় কী ভাবে মোতায়েন হবে, তা নিয়ে একপ্রস্ত আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি আরপিএফ এবং উপকূলরক্ষী বাহিনীর সঙ্গেও পুলিশের সমন্বয় আরও নিবিড় করার উপরে জোর দেওয়া হয়।

পিটিআই জানাচ্ছে, রথযাত্রার প্রস্তুতি সংক্রান্ত বিষয়ে সম্প্রতি একটি নির্দেশিকাও জারি করে ওড়িশা পুলিশ। তাতে শহরের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি অভিযান আরও জোরদার করার কথা বলা হয়েছে। সন্দেহজনক গতিবিধির উপরেও কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে। যে কোনও জরুরি পরিস্থিতি সামলানোর জন্য বম্ব স্কোয়াড এবং পুলিশ কুকুর স্কোয়াডকেও তৈরি থাকতে বলা হয়েছে নির্দেশিকায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *