‘খুচরো নেই’ নেমে যান! ১০০ টাকা দিতেই মেজাজ হারালেন কর্নাটকের বাস কন্ডাক্টর, চিনতেই পারলেন না পরিবহণমন্ত্রীকে

Spread the love

যাত্রীর হাতে ১০০ টাকা দেখেই মেজাজ হারিয়ে ফেলেন কন্ডাক্টর। খুচরো দেওয়া যাবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেন। তখন যাত্রী জানান, তাঁর কাছেও খুচরো নেই।

বাসযাত্রীদের কাছ থেকে এক এক করে টিকিটের টাকা নিচ্ছিলেন কন্ডাক্টর। সেই সময় এক যাত্রী তাঁকে ১০০ টাকা বাড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘‘দুটো টিকিট দিন’’। যাত্রীর হাতে ১০০ টাকা দেখেই মেজাজ হারিয়ে ফেলেন কন্ডাক্টর। খুচরো দেওয়া যাবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেন। তখন যাত্রী জানান, তাঁর কাছেও খুচরো নেই। এ কথা শুনেই নিজের ব্যাগ দেখিয়ে কন্ডাক্টর তাঁকে বলেন, ‘‘আমার কাছেও খুচরো নেই। আপনি নেমে যান।’’

রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থার হালহকিকত সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে রাস্তায় নামেন তিনি। একেবারে সাধারণ যাত্রীর বেশেই তিনি সরকারি বাসে উঠে পড়েছিলেন শনিবার। মুখে ছিল মাস্ক, যাতে কেউ তাঁকে চিনতে না পারেন। হেব্বল থেকে নাগাসেত্থিহল্লি যাওয়ার জন্য দুটো টিকিট চান কন্ডাক্টরের কাছে। পকেট থেকে ১০০ টাকা বার করে কন্ডাক্টরকে দিতেই তিনি সটান জানিয়ে দেন, খুচরো হবে না। মন্ত্রীও জানান, তাঁর কাছে খুচরো নেই। তখন কন্ডাক্টর জানিয়ে দেন, বাস থেকে নেমে যান। একটি সরকারি বাসে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়ে অসন্তুষ্ট হন মন্ত্রী। সরকারি পরিবহণে যাত্রীদের কী সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, তা নিজে পরখ করে দেখলেন।

এখানেই শেষ নয়। তিনি আরও একটি বাসে ওঠেন। সেই বাসটি নির্দিষ্ট স্টপে না দাঁড়িয়ে এগিয়ে যায়। এই বিষয়টিও তাঁর নজরে আসে। সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পরিবহণমন্ত্রী শহরের বেশ কয়েকটি জায়গায় ঘুরে বেড়ান। তার মধ্যে রয়েছে জয়ামহল, টিভি টাওয়ার, আরটি নগর, সিবিআই রোজ, হেব্বল, মান্যতা টেক পার্ক, হেন্নুরের মতো কয়েকটি জায়গা। একটি অটোতেও তিনি ওঠেন। অটোর ভাড়ার মিটারে ৩০ টাকা দেখাচ্ছিল। কিন্তু অটোচালক তাঁর কাছে ৩৬ টাকা দাবি করেন। কিন্তু মন্ত্রী তাঁকে ৪০ টাকা দিয়ে নেমে যান। রাজ্যে পরিবহণের এমন চেহারা দেখে এবং যাত্রীদের প্রতি দিন কী কী সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, তা নিজে চোখে দেখার পর কড়া পদক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নেন। যে বাসটি নির্দিষ্ট স্টপেজে দাঁড়ায়নি, সেই বাসের চালক এবং কন্ডাক্টরকে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *